লেখক : অম্লান ভট্টাচার্য
মল্লিকার সঙ্গে আমার সম্পর্ক শুরু,
প্রথম প্রথম একটা উদাসীনতা কাজ করত আমার ভিতর,
ওর ভিতরে কি চলছিল আমি কখনও বোঝবার চেষ্টা করিনি,
মল্লিকা একদিন আমাকে ডেকে কথা বলল,
বুঝলাম ও আমার সঙ্গে সম্পর্ক গড়তে চায়,
কিন্তু প্রেম ব্যাপারটা আমার কাছে
ধূসর রঙের আকাশ
তরঙ্গহীন সাগর
স্রোত বিনা নদীর শরীর,
ও বলে আমাকে ওর খুব পছন্দ হয়েছে,
আমি বললাম সে কী তুমি কি বিবাহের প্রস্তাব নিয়ে এসেছে,
ও বলে আপত্তি করলে হবে না
আমার প্রেমে ও অসুস্থ বোধ করছে,
আমি কোনও ক্রমে সেই দিনকার মত মুক্তি পেলাম,
এইভাবে অনেকদিন পার হ’ল,
আমি কোন শক্তপোক্ত সাড়া না দেওয়াতে,
হঠাৎ একদিন
ডাকে একটা বিবাহের নিমন্ত্রণ পত্র পেলাম,
মল্লিকার বিবাহ,
কার্ডের ভিতর ছোট একটা পত্র,
লেখা আছে
আমি আপনাকে ভালবাসিনি কোনদিন,
তাই বিয়ের কথা ওঠেই না,
কিন্তু আমার প্রথম পক্ষের স্বামী আবার
আমাকে দ্বিতীয়বার বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ায়
আমি একজন কাপুরুষকে ত্যাগ করলাম,
আমি ঘরের জানলা দরজা সব খুলে দিয়ে
ছুটে বেরিয়ে গেলাম সামনের রাস্তায়,
একটা ফাঁকা বাস পেয়ে লাফিয়ে উঠলাম,
মল্লিকার বাস স্টপেজের একটা টিকিট কেটে
চোখ বুজে রইলাম,
কিছুক্ষণ পর ঘুমিয়ে পড়লাম,
কণ্ডাক্টর ডেকে তুলল,
নামুন নামুন আপনার স্টপেজ এসে গেছে,
বাস থেকে নামতে দেখি মল্লিকা রজনীগন্ধার
ফুলের তোড়া নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে,
আমার দিকে মিষ্টি হাসি ছুঁড়ে দিয়ে বললে
আসুন আসুন,
বিয়ে এখনও দেরি আছে,
বিয়ের লগ্ন প্রায় মাঝরাতে,
চলুন সন্ধ্যালগ্নে আমরা সহবাস করি।
লেখক পরিচিতি : অম্লান ভট্টাচার্য
জন্ম ২৫ ডিসেম্বর ১৯৫৭, কলকাতা। স্কুল - ঢাকুরিয়া রামচন্দ্র হাইস্কুল, কলেজ - সেন্টপলস, বিজ্ঞান বিভাগে স্নাতক, কলা বিভাগে স্পেশাল স্নাতক, কারিগরি শিক্ষা, কম্পিউটার ডিপ্লোমা ও টেগোর রিসার্চ ইনস্টিটিউটে শিক্ষা গ্রহণ, কেন্দ্রীয় সরকারি চাকরি অবশেষে ৩১ ডিসেম্বর ২০১৭ অবসর। এযাবৎ তিনটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত, মূলত কবিতা প্রাধান্য পেয়েছে লেখালেখিতে এবং এই সূত্রে চতুর্থ কাব্যগ্রন্থের প্রকাশ।

