মন খারাপের রংগুলো

লেখক : এস. আজাদ

বিষণ্ণ বিকেল ধীরে ধীরে একলা গোধূলি হয়,
কোলাহলহীন সন্ধ্যার বারান্দায় ছড়িয়ে দেয় মনখারাপের চেনা–অচেনা রঙ।

একসময় ভাবতাম—মনখারাপের আবার রং হয় নাকি!
সে তো শুধু মেঘলা চুলে ঢাকা অমাবস্যা,
নিষিদ্ধ আলোয় সবুজ পাতা, নিজস্বী আঁকে সারা শরীরে।
বন্ধ দরজার ভেতর —অন্ধকার লুকোচুরি খেলে নিঃশব্দে।

এখন দেখি—
মনখারাপ রং বদলায় ক্ষণে ক্ষণে,
বয়সন্ধির বালিকা— পোশাক পাল্টায়।
কখনও অভিমানী লাল, গভীর নির্জন নীল,
অকারণ ক্লান্ত হলুদ, নয়ত অর্ধেক আশায় ভেজা সবুজ।
আমার সমস্ত ব্যালকনি জুড়ে ছড়িয়ে থাকে এই রঙের অস্থিরতা।

আলো আসে—একাকী,
লুটিয়ে পড়ে মনখারাপের পায়ে।
গোমড়া মেঘ লেজ ফুলিয়ে আকাশ দাপায়,
সূর্যের সাথে খেলে লুকোচুরি।

দিনের শেষে, কাউকে না জানিয়ে–প্রেম চুপিসারে প্রস্থান করে।
মুক্তির দাড়িপাল্লা কেঁপে ওঠে। ভাঙা ছড় জানিয়ে দেয়,
একাকিত্বের একলা আঁধারেই জ্বলতে পারে মুক্তির আলো।

ভালবাসা?
সে থাকে বন্ধ দরজার বাইরে—
ভিতরে নীল আলোর নিচে একলা বেডশিট, বিচ্ছিন্ন বালিশ, আর দীর্ঘশ্বাসের নরম ভাঁজ।
তবু জানো—
রং বদলানো মনখারাপই প্রমাণ, হৃদয় এখনও বেঁচে আছে।


লেখক পরিচিতি : এস. আজাদ
লেখক পরিচিতি : জন্ম : ১৯৮৩। পেশা : মাধ্যমিক স্কুলের সহকারী শিক্ষক। নেশা : বই পড়া, বেড়ানো। কলেজ পড়তে পড়তে সম্পাদনা করেছেন মাসিক দেয়াল পত্রিকা 'প্রগত'। ছাপার অক্ষরে তিন বছর সম্পাদনা করেছেন ত্রৈমাসিক লিটিল ম্যাগাজিন 'প্রগত'। বর্ধমান থেকে প্রকাশিত লিটিল ম্যাগাজিন 'ফরিয়াদ' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সহ-সম্পাদক। মূলত ছোট গল্প ও অনু গল্প লেখেন দু-একটা কবিতা ও লেখেন কখনো কখনো, প্রবন্ধ মাঝে মধ্যে। অজ গ্রামের দরিদ্র কৃষক পরিবারের সন্তান। বাবা একজন প্রান্তিক চাষী। পড়াশোনার পাশাপাশি করেছেন শ্রমসাধ্য কৃষি কাজ। জীবন কে দেখেছেন একেবারে ভিতর থেকে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to Top
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন। ধন্যবাদ।

মাসিক দীপায়ন প্রতিযোগিতা

মাসিক দীপায়ন পুরস্কার pop up