লেখক : পল্লব গোস্বামী
অনেক গভীর রাতের ঘুমে, দু’চোখে স্বপ্ন নেমে আসে মিলুর। স্বপ্নে সে দেখে বিশাল এক জঙ্গল। জঙ্গলের ভেতর বুনো হাতিদের দল, বাঁশ গাছ ভাঙতে ভাঙতে, এগিয়ে যাচ্ছে। নাম-না-জানা বুনো ফুলের বাগানে উড়ে বেড়াচ্ছে নাম-না-জানা রঙের প্রজাপতির দল। প্রজাপতিরা উড়ে উড়ে ঢুকে যাচ্ছে আরও গভীর পলাশ বনের ভেতর দিয়ে। বসন্তের পলাশ ফুলে, শিমুল ফুলের রং লেগেছে। নিচে মখমলে সবুজ ঘাস। সবুজ ঘাসের সরু রাস্তা বেয়ে ছুটোছুটি করছে বরফ রংয়ের খরগোশ ছানারা। চঞ্চল বাঁশটিয়ারা আনন্দের সাথে খেয়ে চলেছে লাল টুকটুকে বটফল। তাদের খেয়ে ফেলা বটফলের টুকরো এসে পড়ছে সুগন্ধি চন্দন গাছের ডালে। স্বপ্নের ভিতরেই এমন সুন্দর একটি দৃশ্যের ছবি দেখতে পাচ্ছিল মিলু। সেও যেন আনন্দ নিচ্ছিল, ফল-ফুল-পাখি-গাছেদের সাথে।
কিন্তু হঠাৎই সারা জঙ্গলের পরিস্থিতি কেমন যেন বদলে গেল! কোথা থেকে গাড়িভর্তি দলবল নিয়ে, জঙ্গলের মধ্যে ঢুকে পড়ল চোরাশিকারির দল। ভারী বুট, ভারী যন্ত্রপাতি আর গোলাগুলির শব্দ সারা জঙ্গলজুড়ে। জঙ্গলের ভিতর যেন একটা কালবৈশাখীর ঝড়। ঝড়ে এলোমেলো হতে লাগল স্বপ্নের সেই সবুজ বন। টিয়া পাখিরা ঝরে গেল। রক্তাক্ত হয়ে ছোট ছোট খরগোশ ছানারাও লুটিয়ে পড়ল মাটিতে। থেমে গেল, নীল-হলুদ-রংবেরঙের প্রজাপতিদের ওড়াউড়ি। বন্ধ হয়ে গেল পাখিদের গান, কৃষ্ণচূড়ার সাথে রাধাচূড়ার কথা।
আবহাওয়াটা খুব বিশ্রী হয়ে গেল। সারা আকাশ ঢেকে গেল, কালো রঙের বারুদের চাদরে। এইসব করুণ দৃশ্য দেখে, দু’চোখ জলে ভরে উঠলো মিলুর। নকশি কাঁথার পাশে, তুলোর বালিশটিও ভিজে গেল তার।
পরদিন যখন ভোর হ’ল, বাইরে তখনও বৃষ্টি। বাতাসে অদ্ভুত রকমের এক, পোড়া বারুদের গন্ধ…
লেখক পরিচিতি : পল্লব গোস্বামী
কবি পল্লব গোস্বামীর জন্ম ও বেড়ে ওঠা পুরুলিয়া জেলার মানবাজার মফস্সল শহরে। "মানবাজার রাধামাধব বিদ্যায়তনে" পড়াশোনা করেছেন। প্রশিক্ষণ নিয়েছেন মাঝিহিড়া আশ্রম শিক্ষক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান থেকে। রামানন্দ সেন্টিনারি কলেজ থেকে বাংলা সাহিত্যে স্নাতক। পরবর্তী সময়ে বাংলা সাহিত্য ও সমাজকর্ম বিষয়ে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়াশোনা। বর্তমানে গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞান বিষয়ের ছাত্র। লেখালেখির শুরু ২০১৫ সাল নাগাদ। লিখেছেন দেশ, কৃত্তিবাস, কবিতা আশ্রম, কবিসম্মেলন, মধ্যবর্তী সহ বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায়। বঙ্গীয় সাহিত্য দর্পণ গোষ্ঠীর থেকে প্রথম কাব্যগ্রন্থের জন্য পেয়েছেন বিশেষ পুরস্কার। প্রিয় শখ: বই পড়া, গান শোনা, রান্নাবান্না এবং হাসপাতাল চত্বরে ঘুরে বেড়ানো। প্রথম কাব্যগ্রন্থ:- "সারাক্ষণ মেঘ ও ময়ূর"। "শীতলপাটি" তাঁর দ্বিতীয় প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। সদ্য প্রকাশিত গ্রন্থ: "হরিণবাগান"।


আহা! কঠোর, নিষ্ঠুর বাস্তবের করুণ চিত্র; শব্দের মেখলায় আদরে জড়ানো আধুনিক যন্ত্রসভ্যতার অত্যাচারে দীর্ণ সর্বংসহা প্রকৃতির শব।
প্রণাম 🙏