লেখক : সুঞ্জনা
আমার যে খুব বেশি কিছু লিখে ফেলার আছে, এমন নয়।
তবু মাঝেমধ্যেই শব্দগুলো আষ্টেপৃষ্ঠে ধরে
কবিতা হতে চায়।
কিছুতেই তারা গদ্যের মতো মুক্ত থাকবে না।
আর আমি মুক্ত বাতাসে নিঃশব্দে উড়ে যেতে চাই।
যত বয়স বেড়েছে, বুঝেছি—আমার খুব বেশি কিছু বলে যাওয়ার নেই।
তবু শব্দেরা জাপটে এসে ধরে, খাতার পাতায় তারা তারিখ হয়ে থাকতে চায়।
আমি তো সাদা খাতায় খরস্রোতা নদীর মত
বয়ে যেতে দিতে চাই ওদের।
কিন্তু আমি মুক্ত করে দেব বললেই তো সে মুক্ত হয় না।
প্রেমিককে যদি বলি—
“যা, আজ থেকে তুই আমার কেউ না,”
তবু কি প্রেম তাকে যেতে দেয়?
রাগ করে মা যখন বলে,
“চল, তোকে দিয়ে আসি সাগরের জলে”—
মন কি তবু সাগরে ডুবতে চায়?
এ এক বড় মায়া।
এই মায়া এক বড় বাঁধন।
এই বাঁধনে বাঁধব না ভেবে যদি না লিখি,
তবু শব্দ কি আমাকে ছাড়ে?
তারা ছন্দ হতে চায়।
যদি না আমি ছন্দ দিই,
তারা আমার জীবনে ঢুকে পড়ে—
আমার বুকের ধুকপুক শব্দে,
কানে তালা লেগে যাওয়ার শব্দে,
আমার জানলা দিয়ে ঢুকে পড়া চাঁদের আলোর শব্দে।
শব্দরা ছন্দ খোঁজে।
ছন্দ কবিতা হয়।
আর আমার সঙ্গে তাদের চলে ভীষণ লড়াই।
আমার লেখার কিচ্ছু নেই।
আমার বলার কিচ্ছু নেই।
তবু যদি বলতেই হয়,
যদি জোর করো লিখতে—
তবে আমি গদ্যই লিখব,
আমি গদ্যই হব।
মুক্ত, খোলা—
দাঁড়ি–কমা–বিহীন…
লেখক পরিচিতি : সুঞ্জনা
সাধারণ মানুষ

